ছবি: প্রতিনিধি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগের পাচার করা টাকা যেখানেই থাকুক না কেন, তা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়েও সেই টাকা বের করে আনা হবে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এসিএম উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘২৪ না হলে ’২৬ পাওয়া যেত না। যারা এটা অস্বীকার করে, তাদের এই ’২৬-এই লাল কার্ড দেখানো হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ নতুন পথ খুঁজে পাবে।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকসু থেকে শুরু করে জকসুতে এসে থেমে গেছে। আমরা দুর্নীতি, ব্যাংক ডাকাত ও ঋণখেলাপিমুক্ত বাংলাদেশ চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাঘ মাসে যদি মাথা এত গরম হয়, চৈত্র মাসে কী হবে? মাথা ঠান্ডা রাখুন। মাথা গরম হলে মানুষ ভুল করে ফেলে।’ যুবসমাজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ গড়বে যুবকরাই। যুবকেরা ঘুমিয়ে পড়েনি।’
যুবকদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা বেকার ভাতা দিয়ে যুবক-যুবতীদের হাতে সহায়তা তুলে দিতে চাই। তারা নিজ যোগ্যতায় দেশ গড়ে তুলবে এবং গর্ব করে বলবে-এটা আমার বাংলাদেশ।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বীরেরা কখনো মরে না। তারা জীবন দিয়ে বলে যায়—আমার জীবন তোমাদের জন্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাড়ে ১৫ বছর আমরা সবাই মজলুম ছিলাম। কিন্তু ১৫ মাসেই কেউ কেউ চাঁদাবাজে পরিণত হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারিতে বিজয়ী হলে আর দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না।’
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, ‘আমি বিএনপিতে ছিলাম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে আমি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। সেখান থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়।’
অলি আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে টাকা পাচার করেছে, তা দেশে থাকলে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হতো।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের জায়গায় এখন বিএনপি কাজ করছে। তারা ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বিএনপি আর জিয়া ও খালেদা জিয়ার বিএনপি নয়। এটি এখন ভাড়াটিয়া ও চাঁদাবাজদের দলে পরিণত হয়েছে। এই চাঁদাবাজির কারণেই আমি দল ছেড়েছি। তাদের সঙ্গে থাকলে দুদকে যেতে হতে পারে।’
অলি আহমদ বলেন, ‘বেইমান ও দেশদ্রোহীদের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে হলে আবারও প্রস্তুতি নিতে হবে। একটি ভুল ভোট দেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করতে পারে। তাই যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিন। ১১ দলীয় জোটে কোনো বিদেশি দালাল নেই।’
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, জামায়াত নেতা হামিদ হোসেন আজাদ, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম এবং বান্দরবান আসনের এনসিপি প্রার্থী এস এম সুজাউদ্দিন।
দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী ডা. শফিকুর রহমান সোমবার সকালে কক্সবাজার, দুপুরে লোহাগাড়া-সাতকানিয়া, বিকেলে সীতাকুণ্ড এবং সর্বশেষ চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় জনসভায় বক্তব্য দিয়ে রাতে ঢাকায় ফেরেন।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :